ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
মাদারীপুরে নতুন কুঁড়ি কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধির লক্ষে মতবিনিময় আপনারা বাংলাদেশের পতাকাবাহী একএকজন এম্বাসেডর মাদারীপুরে- নৌপ্রতিমন্ত্রী মাদারীপুরে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগের সপ্তাহ পার হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ মাদারীপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক মাদারীপুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি!ডিলারকে ৬০ হাজার টাকা মাদারীপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্তু বিতরণ ইসলা‌মিক বক্তা সাঈদ আনসারীর মনোনয়নপত্র বাতিল বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মাদারীপুরে দোয়া মাহফিল মাদারীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক বেপারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ মাদারীপুরে কোপানো ও শ্লীলতাহানির ঘটনা এক সপ্তাহ পার হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ

এনসিপি নেতার অনৈতিক সম্পর্কের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ফাঁস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ ৫৬৭ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাদারীপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আত্মসাৎ এবং অনৈতিক সম্পর্কের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হয়েছে একটি অশ্লীল ভিডিও কল রেকর্ড ও কিছু ছবি। অভিযুক্ত এনসিপি নেতা মেরাজুল ইসলাম এসব অভিযোগ দায়সারা ভাবে অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানা যায়, রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের বাসিন্দা মেরাজুল একসময় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। অনিয়ম ও নারী ঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগে চারটি স্কুল থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি যোগ দেন এনসিপিতে। বর্তমানে তিনি জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগীদের একজন নারী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে, মেরাজুল আমাকে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। পরে আমার ফোন থেকে গোপনে ছবি নিয়ে তা দেখিয়ে আমার কাছে টাকা দাবি করেন। শুরুতে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন মেরাজুল। আরও টাকার জন্য এখনো হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ওই ভুক্তভোগী নারী রাজৈর থানায় ও সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও কল রেকর্ডে এক নারীকে উদ্দেশ করে অভিযুক্ত নেতাকে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থ্রি-ডি ডিজিটাল স্কুলের পরিচালক আরিফুজ্জামান টিপু বলেন, ‘স্কুলের টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ- এসবের কারণে আমরা তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করি। এরপর তিনি আরও কয়েকটি স্কুল থেকে একই কারণে চাকরি হারিয়েছেন।

এদিকে, এনসিপি নেতা মেরাজুলের বিরুদ্ধে এক ইউপি সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী ইউপি সদস্য মোখলেস মিনা বলেন, নাম কেটে দেওয়ার নামে টাকা চাওয়া হয়েছে। তারা তালিকা বানিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। মুখ খুললে আরও হয়রানির ভয় আছে।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেরাজুল ইসলাম বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুল, নারীদের কুপ্রস্তাব, অবৈধ বালু ব্যবসা ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়গুলোর মধ্যে কোনটাই সত্য না। সব জায়গায় আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। যদি কেউ বলতে পারে তাহলে আমি মেনে নেব। তবে ফাঁস হওয়া অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও রেকর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার একটা ফোন হারিয়ে গেছে। ওই ফোনে কি ছিল’ না ছিল’ তা আমি জানি না।

এনসিপি মাদারীপুর জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আজগর শেখ বলেন, দলে নানা পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন। কেউ যদি অনৈতিক কিছু করে থাকেন, সেটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রকে অবগত করা হবে।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুল হক বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্লাকমেইল, নির্যাতন ও হয়রানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এনসিপি নেতার অনৈতিক সম্পর্কের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ফাঁস

আপডেট সময় : ০২:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাদারীপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আত্মসাৎ এবং অনৈতিক সম্পর্কের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হয়েছে একটি অশ্লীল ভিডিও কল রেকর্ড ও কিছু ছবি। অভিযুক্ত এনসিপি নেতা মেরাজুল ইসলাম এসব অভিযোগ দায়সারা ভাবে অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানা যায়, রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের বাসিন্দা মেরাজুল একসময় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। অনিয়ম ও নারী ঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগে চারটি স্কুল থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি যোগ দেন এনসিপিতে। বর্তমানে তিনি জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগীদের একজন নারী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে, মেরাজুল আমাকে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। পরে আমার ফোন থেকে গোপনে ছবি নিয়ে তা দেখিয়ে আমার কাছে টাকা দাবি করেন। শুরুতে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন মেরাজুল। আরও টাকার জন্য এখনো হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ওই ভুক্তভোগী নারী রাজৈর থানায় ও সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও কল রেকর্ডে এক নারীকে উদ্দেশ করে অভিযুক্ত নেতাকে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থ্রি-ডি ডিজিটাল স্কুলের পরিচালক আরিফুজ্জামান টিপু বলেন, ‘স্কুলের টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ- এসবের কারণে আমরা তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করি। এরপর তিনি আরও কয়েকটি স্কুল থেকে একই কারণে চাকরি হারিয়েছেন।

এদিকে, এনসিপি নেতা মেরাজুলের বিরুদ্ধে এক ইউপি সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী ইউপি সদস্য মোখলেস মিনা বলেন, নাম কেটে দেওয়ার নামে টাকা চাওয়া হয়েছে। তারা তালিকা বানিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। মুখ খুললে আরও হয়রানির ভয় আছে।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেরাজুল ইসলাম বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুল, নারীদের কুপ্রস্তাব, অবৈধ বালু ব্যবসা ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়গুলোর মধ্যে কোনটাই সত্য না। সব জায়গায় আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। যদি কেউ বলতে পারে তাহলে আমি মেনে নেব। তবে ফাঁস হওয়া অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও রেকর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার একটা ফোন হারিয়ে গেছে। ওই ফোনে কি ছিল’ না ছিল’ তা আমি জানি না।

এনসিপি মাদারীপুর জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আজগর শেখ বলেন, দলে নানা পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন। কেউ যদি অনৈতিক কিছু করে থাকেন, সেটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রকে অবগত করা হবে।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুল হক বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্লাকমেইল, নির্যাতন ও হয়রানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।