ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
মাদারীপুরে এশিয়া পোস্ট এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত। মাদারীপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ মাদারীপুরে নতুন কুঁড়ি কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধির লক্ষে মতবিনিময় আপনারা বাংলাদেশের পতাকাবাহী একএকজন এম্বাসেডর মাদারীপুরে- নৌপ্রতিমন্ত্রী মাদারীপুরে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগের সপ্তাহ পার হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ মাদারীপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক মাদারীপুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি!ডিলারকে ৬০ হাজার টাকা মাদারীপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্তু বিতরণ ইসলা‌মিক বক্তা সাঈদ আনসারীর মনোনয়নপত্র বাতিল বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মাদারীপুরে দোয়া মাহফিল

মাদারীপুরে বাথরুমে ফেলে দেওয়া সেই নবজাতক পেল বাবা-মা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৭৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৬৯

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাদারীপুরে বাথরুমের ভেতর ফেলে রাখা নবজাতক খুঁজে পেল বাবা-মা। ঠাই হলো এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর ঘরে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে আদালত যাছাইবাছাই শেষে সাড়ে তিন লাখ টাকা বন্ডে নিঃসন্তান দম্পতি নাদিম ও সাদিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয় নবজাতকে।

তবে শিশুটি দত্তক নিতে পেরে প্রবাসী বাবা ও মাও মহাখুশি।

জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে শহরের লেকের দক্ষিণপাড়ের বাবু চৌধুরী জেনারেল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সাথী বেগম বাথরুমের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় এক নবজাতককে দেখতে পায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিশুটির দ্বায়িত্ব নেন। এবং এবিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে সমাজসেবা অধিদফতর। এরইপেক্ষিতে শিশুটিকে দত্তক নিতে ভীড় করেন অনেকেই। নবজাতককে দত্তক নিতে মাদারীপুর শিশু আদালতে আবেদন পড়ে একে একে ৩৫টি। এ ঘটনায় সোমবার দিনব্যাপী চলে শুনানী। পরে যাছাইবাছাই শেষে সিঙ্গাপুর প্রবাসী নাদিম আকন ও সাদিয়া আক্তার দম্পতিকে দত্তক নেয়ার সিদ্ধান্ত দেন আদালতের বিচারক রিফাত মোল্লা। শিশুকে সাড়ে তিন লাখ টাকা বন্ডসহ ৫টি শর্তে দেয়া হয় তাদের। পরে মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মা-বাবার হাতে তুলে দেয়া হয় শিশুটিকে। শহরের পাঠকাকান্দি এলাকায় বসবাস সাদিয়া আক্তার ও নাদিম আকন দম্পতির। নবজাতককে দত্তক নিতে পেরে খুশিতে আত্মহারা তারা। অন্যদিকে আদালতের সিদ্ধান্ত দুই মাস পর পর শিশুটির শারিরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদফতর।

শিশুকে দত্তক নেয়া সিঙ্গাপুর প্রবাসী নাদিম আকন বলেন, আমি শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে ছুটে এসেছি। আমি মেয়েটিকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো। সাদিয়া আক্তার বলেন, এই শিশুটি এখন থেকে আমাদের সন্তান। মায়ের আদর দিয়ে ওকে মানুষ করবো। কোন কষ্ট-দুঃখ হতে দিবো না। সুখেশান্তিতে আমাদের পরিবারে থাকবে সে।

মাদারীপুর সমাজসেবা অধিদফতরের অফিসার শেখ নাহিয়ান ওয়াহিদ জানান, আদালত যোগ্য মনে করে নাদিম ও সাদিয়া দম্পতির কাছে শিশুটিকে দত্তক দিয়েছেন। শিশুটির খোঁজখবর নিয়ে দুই মাস পর পর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। সমাজসেবা অধিদফতর এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাদারীপুরে বাথরুমে ফেলে দেওয়া সেই নবজাতক পেল বাবা-মা

আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৬৯

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাদারীপুরে বাথরুমের ভেতর ফেলে রাখা নবজাতক খুঁজে পেল বাবা-মা। ঠাই হলো এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর ঘরে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে আদালত যাছাইবাছাই শেষে সাড়ে তিন লাখ টাকা বন্ডে নিঃসন্তান দম্পতি নাদিম ও সাদিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয় নবজাতকে।

তবে শিশুটি দত্তক নিতে পেরে প্রবাসী বাবা ও মাও মহাখুশি।

জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে শহরের লেকের দক্ষিণপাড়ের বাবু চৌধুরী জেনারেল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সাথী বেগম বাথরুমের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় এক নবজাতককে দেখতে পায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিশুটির দ্বায়িত্ব নেন। এবং এবিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে সমাজসেবা অধিদফতর। এরইপেক্ষিতে শিশুটিকে দত্তক নিতে ভীড় করেন অনেকেই। নবজাতককে দত্তক নিতে মাদারীপুর শিশু আদালতে আবেদন পড়ে একে একে ৩৫টি। এ ঘটনায় সোমবার দিনব্যাপী চলে শুনানী। পরে যাছাইবাছাই শেষে সিঙ্গাপুর প্রবাসী নাদিম আকন ও সাদিয়া আক্তার দম্পতিকে দত্তক নেয়ার সিদ্ধান্ত দেন আদালতের বিচারক রিফাত মোল্লা। শিশুকে সাড়ে তিন লাখ টাকা বন্ডসহ ৫টি শর্তে দেয়া হয় তাদের। পরে মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মা-বাবার হাতে তুলে দেয়া হয় শিশুটিকে। শহরের পাঠকাকান্দি এলাকায় বসবাস সাদিয়া আক্তার ও নাদিম আকন দম্পতির। নবজাতককে দত্তক নিতে পেরে খুশিতে আত্মহারা তারা। অন্যদিকে আদালতের সিদ্ধান্ত দুই মাস পর পর শিশুটির শারিরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদফতর।

শিশুকে দত্তক নেয়া সিঙ্গাপুর প্রবাসী নাদিম আকন বলেন, আমি শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে ছুটে এসেছি। আমি মেয়েটিকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো। সাদিয়া আক্তার বলেন, এই শিশুটি এখন থেকে আমাদের সন্তান। মায়ের আদর দিয়ে ওকে মানুষ করবো। কোন কষ্ট-দুঃখ হতে দিবো না। সুখেশান্তিতে আমাদের পরিবারে থাকবে সে।

মাদারীপুর সমাজসেবা অধিদফতরের অফিসার শেখ নাহিয়ান ওয়াহিদ জানান, আদালত যোগ্য মনে করে নাদিম ও সাদিয়া দম্পতির কাছে শিশুটিকে দত্তক দিয়েছেন। শিশুটির খোঁজখবর নিয়ে দুই মাস পর পর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। সমাজসেবা অধিদফতর এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করবে।