ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
মাদারীপুরে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগের সপ্তাহ পার হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ মাদারীপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক মাদারীপুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি!ডিলারকে ৬০ হাজার টাকা মাদারীপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্তু বিতরণ ইসলা‌মিক বক্তা সাঈদ আনসারীর মনোনয়নপত্র বাতিল বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মাদারীপুরে দোয়া মাহফিল মাদারীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক বেপারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ মাদারীপুরে কোপানো ও শ্লীলতাহানির ঘটনা এক সপ্তাহ পার হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ মাদারীপুরে বাথরুমে ফেলে দেওয়া সেই নবজাতক পেল বাবা-মা মাদারীপুরে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে চিকিৎসকের আত্মহত্যা

মাদারীপুরে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগের সপ্তাহ পার হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় পানির সেচ পাম্প ব্যবহার নিয়ে বাকবিতন্ডায় জেরে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মারধর এবং কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মাদারীপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ কার্যত কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ২০ এপ্রিল সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে গেলে এ তথ্য পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, ​মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় গত ১৩ এপ্রিল বেলা এগারোটা দিকে পানির সেচ পাম্প ব্যবহার নিয়ে প্রতিবেশী রাসেল সরদারের সাথে প্রথমে বাকবিতন্ডায় শুরু হয়। এ ঘটনার জেরে সরোয়ার সরদারের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধর এবং কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়ে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

​ভুক্তভোগী রানা সরদার জানান, “তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। এবং দুর্ভাগ্যের বিষয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আমরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছি না। ডাক্তাররা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আমাদের প্রেসক্রিপশন পর্যন্ত দিচ্ছে না।”
​রানার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন, তিনি বলেন, “আমি পা ভেঙে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছি, কিন্তু ডাক্তার আমার চিকিৎসায় অবহেলা করছে। তারা আমাদের ঠিকমত কোনো ওষুধ দিচ্ছে না। রাজিব ডাক্তার আমাদের এলাকার। তাই বিরোধীপক্ষের লোকজনের পক্ষে কথা বলে। আমাকে চলে যেতে বলেছে। তিনি আরও বলেন হামলার সময় তাদের বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর ছোট ভাই ও অভিযোগকারী সাগর সরদার বর্তমানে কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “বাড়ি গেলে তারা আমাদের আবারও আক্রমণ করবে, ও মারধর করবে। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাই।” আমার ভাইকে সরো সরদারের হুকুমে মাথার উপর কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আমার মাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাথি মেরে মেরে পা ভেঙে ফেলেছে। আমাকেও মারধর করেছে। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

​অভিযুক্তরা প্রথমে ঘটনাটি সাজানো বললেও পরে একজন স্বীকার করে বলেন ওরা নিজেরাই ঘর ভাংচুর করেছে। পরে আমাদের লোকজন অল্প ভাংছে। তবে রানার মাথা রানা নিজেই ফাটাইছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি যে, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ​এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

হামলার ঘটনার অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই জিয়াউর রহমানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ আছে তদন্ত চলছে। মামলা দায়ের মতো হলে থানায় মামলা দায়ের হবে। ঘটনার ১ সপ্তাহ পার হলেও এখনো কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে।

এবিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাদারীপুরে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগের সপ্তাহ পার হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

আপডেট সময় : ০৪:০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় পানির সেচ পাম্প ব্যবহার নিয়ে বাকবিতন্ডায় জেরে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মারধর এবং কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মাদারীপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ কার্যত কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ২০ এপ্রিল সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে গেলে এ তথ্য পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, ​মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ি এলাকায় গত ১৩ এপ্রিল বেলা এগারোটা দিকে পানির সেচ পাম্প ব্যবহার নিয়ে প্রতিবেশী রাসেল সরদারের সাথে প্রথমে বাকবিতন্ডায় শুরু হয়। এ ঘটনার জেরে সরোয়ার সরদারের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধর এবং কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়ে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

​ভুক্তভোগী রানা সরদার জানান, “তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। এবং দুর্ভাগ্যের বিষয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আমরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছি না। ডাক্তাররা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আমাদের প্রেসক্রিপশন পর্যন্ত দিচ্ছে না।”
​রানার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন, তিনি বলেন, “আমি পা ভেঙে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছি, কিন্তু ডাক্তার আমার চিকিৎসায় অবহেলা করছে। তারা আমাদের ঠিকমত কোনো ওষুধ দিচ্ছে না। রাজিব ডাক্তার আমাদের এলাকার। তাই বিরোধীপক্ষের লোকজনের পক্ষে কথা বলে। আমাকে চলে যেতে বলেছে। তিনি আরও বলেন হামলার সময় তাদের বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর ছোট ভাই ও অভিযোগকারী সাগর সরদার বর্তমানে কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “বাড়ি গেলে তারা আমাদের আবারও আক্রমণ করবে, ও মারধর করবে। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাই।” আমার ভাইকে সরো সরদারের হুকুমে মাথার উপর কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আমার মাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাথি মেরে মেরে পা ভেঙে ফেলেছে। আমাকেও মারধর করেছে। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

​অভিযুক্তরা প্রথমে ঘটনাটি সাজানো বললেও পরে একজন স্বীকার করে বলেন ওরা নিজেরাই ঘর ভাংচুর করেছে। পরে আমাদের লোকজন অল্প ভাংছে। তবে রানার মাথা রানা নিজেই ফাটাইছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি যে, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ​এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

হামলার ঘটনার অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই জিয়াউর রহমানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ আছে তদন্ত চলছে। মামলা দায়ের মতো হলে থানায় মামলা দায়ের হবে। ঘটনার ১ সপ্তাহ পার হলেও এখনো কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে।

এবিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।