ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
মাদারীপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে নারীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক মাদারীপুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি!ডিলারকে ৬০ হাজার টাকা মাদারীপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্তু বিতরণ ইসলা‌মিক বক্তা সাঈদ আনসারীর মনোনয়নপত্র বাতিল বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মাদারীপুরে দোয়া মাহফিল মাদারীপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক বেপারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ মাদারীপুরে কোপানো ও শ্লীলতাহানির ঘটনা এক সপ্তাহ পার হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ মাদারীপুরে বাথরুমে ফেলে দেওয়া সেই নবজাতক পেল বাবা-মা মাদারীপুরে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে চিকিৎসকের আত্মহত্যা মাদারীপুরে রাতের আঁধারে কবর থেকে লাশ উধাও অবিশ্বাস্য ঘটনায় স্তব্ধ এলাকাবাসী।

মাদারীপুরে কোপানো ও শ্লীলতাহানির ঘটনা এক সপ্তাহ পার হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাদারীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা- মেয়েসহ ৪জন গুরুতর জখম এবং শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করছে পুলিশ। অন্যদিকে থানায় মামলা না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুর পৌর শহরের পাকদী (বেড়িবাঁধ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের পাকদী এলাকায় বাড়ির সামনের একটি গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী নাহিদ শেখ ওরফে কোটন ও অহিদ তাদের দলবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শুক্কুর আলীর পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রথমে ছেলে সজল মিয়াকে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর শুরু করে। ছেলের আর্তচিৎকার শুনে পিতা শুক্কুর আলী এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষরা। এ সময় কোপের আঘাতে তার হাতের দুটি আঙুল কেটে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, শুক্কুর আলীর বড় মেয়ে মুক্তা বাবাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে এবং গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তিনি বাধা দিলে চাপাতির কোপে তার হাতের কবজি মারাত্মকভাবে জখম হয়। এতে হাতের একাধিক রগ কেটে যায়। একই সঙ্গে তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় মকবুল নামের আরও একজন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ডাক্তার জানিয়েছেন মুক্তার হাতের কয়েকটি রগ কেটে যাওয়ায়, তার হাতের অবস্থা আশংকাজনক। বর্তমানে হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পাকদী বেড়িবাঁধ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রতিপক্ষের হুমকি ধামকির ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে পুলিশ বলছে আমরা একাধিকবার গিয়েছি।

শুকুর আলী বলেন, আমি হটাৎ শুনতে আমার ছেলেকে মারধর করছে কোটন ও অহিদ তাঁদের দলবল নিয়ে। আমি দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে বাঁচাতে ওরা আমাকে কোপ দিলে, হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে চাপাতির আঘাতে আমার হাতের একটি আঙুল কেটে যায়। আমি থানায় অভিযোগ করেও ভয়ের মধ্যে আছি। কখন ওরা আবার আমাদের মারধর করে। এখনো কোটন ও অহিদ আমার পরিবারের লোকজনকে মেরে ফেলা’র হুমকি ধামকি দিতেছে। কান্না জড়িত কন্ঠে শুকুর আরও বলেন, আমি গরীব অসহায় মানুষ, দিন আনি, দিন খাই। আমি কষ্ট করে সোংসার চালাই। আমি মেয়ের হাত পঙ্গু হয়ে গেলে, ওর সোংসার কে চালাইবো। আমি বাদী হয়ে অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ শুধু আমারে ঘুরাইতেছে। তাই সরকার ও প্রশাসনের কাছে নাহিদ কোটন ও অহিদসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকালে সঠিক বিচার চাই। আমি যেন ন্যায় বিচার পাই, এটাই আমার দাবি।

গুরুতর আহত মুক্তা জানান, ভাই ও বাবাকে বাঁচাতে আমরা গেলে নাহিদ ও অহিদসহ ওরা সবাই আমাদেরও হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে। এবং আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিলে, আমাকে মেরে ফেলা’র জন্য চাপাতি দিয়ে মাথার উপর কোপ দিলে হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে, আমার হাতের কবজি মারাত্মকভাবে জখম হয়। একই সঙ্গে তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলে। আমার হাতের ৩/৪টি রগ কেটে গেছে। আমি একজন গার্মেন্টস কর্মী, আমি পঙ্গু হয়ে গলে সংসার চালাবো কেমনে। আমরা অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিচ্ছে না। আমাদের শুধু ঘুরাইতে, আমরা গরীব অসহায় মানুষ। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে সরকার, প্রশাসন ও দেশের জনগণের কাছে আমি নাহিদ কোটন ও অহিদসহ হামলার সাথে জড়িত সকালে কঠিন বিচার চাই। আমি সকল গার্মেন্টস কর্মী ভাইবোনদের এ ঘটনার ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আপনাদের আমার পাশে চাই।

উক্ত ঘটনার তদন্তে আসা মাদারীপুর সদর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ আছে, একাধিকবার আমি গিয়েছি। দুপক্ষকে মিলে যাওয়ার সময় দিয়েছি। তারা মিলমিশ করতে না পারলে, মামলা নেওয়া মতো হলে, মামলা নিবো।

ঘটনার এক সপ্তাহে পরে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে এবিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, একটা হাত কাটার ঘটনার অভিযোগ আছে, তবে সেই ঘটনায় মামলা প্রসেসিংএ আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাদারীপুরে কোপানো ও শ্লীলতাহানির ঘটনা এক সপ্তাহ পার হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাদারীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা- মেয়েসহ ৪জন গুরুতর জখম এবং শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করছে পুলিশ। অন্যদিকে থানায় মামলা না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুর পৌর শহরের পাকদী (বেড়িবাঁধ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের পাকদী এলাকায় বাড়ির সামনের একটি গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী নাহিদ শেখ ওরফে কোটন ও অহিদ তাদের দলবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শুক্কুর আলীর পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রথমে ছেলে সজল মিয়াকে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর শুরু করে। ছেলের আর্তচিৎকার শুনে পিতা শুক্কুর আলী এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষরা। এ সময় কোপের আঘাতে তার হাতের দুটি আঙুল কেটে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, শুক্কুর আলীর বড় মেয়ে মুক্তা বাবাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে এবং গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তিনি বাধা দিলে চাপাতির কোপে তার হাতের কবজি মারাত্মকভাবে জখম হয়। এতে হাতের একাধিক রগ কেটে যায়। একই সঙ্গে তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় মকবুল নামের আরও একজন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ডাক্তার জানিয়েছেন মুক্তার হাতের কয়েকটি রগ কেটে যাওয়ায়, তার হাতের অবস্থা আশংকাজনক। বর্তমানে হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পাকদী বেড়িবাঁধ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রতিপক্ষের হুমকি ধামকির ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে পুলিশ বলছে আমরা একাধিকবার গিয়েছি।

শুকুর আলী বলেন, আমি হটাৎ শুনতে আমার ছেলেকে মারধর করছে কোটন ও অহিদ তাঁদের দলবল নিয়ে। আমি দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে বাঁচাতে ওরা আমাকে কোপ দিলে, হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে চাপাতির আঘাতে আমার হাতের একটি আঙুল কেটে যায়। আমি থানায় অভিযোগ করেও ভয়ের মধ্যে আছি। কখন ওরা আবার আমাদের মারধর করে। এখনো কোটন ও অহিদ আমার পরিবারের লোকজনকে মেরে ফেলা’র হুমকি ধামকি দিতেছে। কান্না জড়িত কন্ঠে শুকুর আরও বলেন, আমি গরীব অসহায় মানুষ, দিন আনি, দিন খাই। আমি কষ্ট করে সোংসার চালাই। আমি মেয়ের হাত পঙ্গু হয়ে গেলে, ওর সোংসার কে চালাইবো। আমি বাদী হয়ে অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ শুধু আমারে ঘুরাইতেছে। তাই সরকার ও প্রশাসনের কাছে নাহিদ কোটন ও অহিদসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকালে সঠিক বিচার চাই। আমি যেন ন্যায় বিচার পাই, এটাই আমার দাবি।

গুরুতর আহত মুক্তা জানান, ভাই ও বাবাকে বাঁচাতে আমরা গেলে নাহিদ ও অহিদসহ ওরা সবাই আমাদেরও হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে। এবং আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিলে, আমাকে মেরে ফেলা’র জন্য চাপাতি দিয়ে মাথার উপর কোপ দিলে হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে, আমার হাতের কবজি মারাত্মকভাবে জখম হয়। একই সঙ্গে তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলে। আমার হাতের ৩/৪টি রগ কেটে গেছে। আমি একজন গার্মেন্টস কর্মী, আমি পঙ্গু হয়ে গলে সংসার চালাবো কেমনে। আমরা অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিচ্ছে না। আমাদের শুধু ঘুরাইতে, আমরা গরীব অসহায় মানুষ। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে সরকার, প্রশাসন ও দেশের জনগণের কাছে আমি নাহিদ কোটন ও অহিদসহ হামলার সাথে জড়িত সকালে কঠিন বিচার চাই। আমি সকল গার্মেন্টস কর্মী ভাইবোনদের এ ঘটনার ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আপনাদের আমার পাশে চাই।

উক্ত ঘটনার তদন্তে আসা মাদারীপুর সদর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ আছে, একাধিকবার আমি গিয়েছি। দুপক্ষকে মিলে যাওয়ার সময় দিয়েছি। তারা মিলমিশ করতে না পারলে, মামলা নেওয়া মতো হলে, মামলা নিবো।

ঘটনার এক সপ্তাহে পরে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে এবিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে, মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, একটা হাত কাটার ঘটনার অভিযোগ আছে, তবে সেই ঘটনায় মামলা প্রসেসিংএ আছে।